বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ
অভিযান(৯৪) তারিখঃ—৩১/১০/২০১৭ আজকের
আলোচ্য বিষয়ঃ-- [বেদ যজ্ঞ করে জেনে নাও মানব জীবনের উদ্দেশ্য কি?]
এই পৃথিবীতে মানুষ এসছে নিজেকে জানতে। আমি
কে? এই সাড়ে তিন হাতের দেহটাই কি আমি? তাহলে আমি এখানে আছি, অথচ আমার মনটা ছুটে
ছূটে এদিক ওদিক যাচ্ছে কেন? মৃত্যুর পরে এই দেহটা যেমনকার তেমনি পড়ে থাকছে অথচ কে
যেন এই দেহ থেকে বেড়িয়ে চলে যাচ্ছে—এই আমিটা বেড়িয়ে কোথাও তো যাচ্ছে নূতন কিছু
করার জন্যে। যদি মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যেত তবে এই মন – আত্মা বলে দেহে কিছুই থাকতো
না। তাই চৈতন্যকে জাগ্রত করে জেনে নিতেই হবে এই জীবনের গতি কোনদিকে চলেছে। যদি
জীবনের গতি বিশালের সাথে যুক্ত হবার দিকে ধাবিত হয় তবে তো সে জীবন অনন্ত গতির সাথে
মিশে এক হয়ে মহানন্দলোকে অবস্থান করবে। তাই জেনে রাখা দরকার শূন্য থেকেই বিশ্বের
সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে ও হয়ে যাচ্ছে বিধির বিধান মেনে। আবার মহাকালের কবলে পড়ে সবায়
শূন্যেই লয় হয়ে যাচ্ছে। তাই শূন্যই স্রষ্টা – শূন্যই আদি সত্তা – শূন্যই পরম
চৈতন্য সত্তা—নিরাকার সত্তা আবার পূর্ণ ব্রহ্মময় সাকার সত্তা, যে সত্তাকে সব
আকারেই ধরা যায় আবার কোন আকারেই তাঁকে দেখা যায় না। একেই বলা হল—নিরাকার ব্রহ্ম—নিরাকার
গড—নিরাকার আল্লা। এই নিরাকার থেকেই সবায় আকার পাচ্ছে শক্তির মাত্রা অনুসারে। সেই
পরম চৈতন্যের সাথে আমাদের জীব চৈতন্যেকে একাত্ম করাবার জন্যে আমরা অহোরাত্র সেই
পরম চৈতন্যের অর্থাৎ শূন্যের ধ্যান করে চলেছি জানতে বা অজানতে বিভিন্ন মত- পথ ধরে
শ্রদ্ধার তারতম্য অনুসারে। ওঁ সত্যম শিবম সুন্দরম ওঁ নমঃ শিবায়।

No comments:
Post a Comment